দুরুদ শরীফ পাঠের স্থানসমূহের বর্ণনা

উৎস:
ইসলাহী নেসাব: যাদুস সাঈদ
হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদে মিল্লাত, মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (র:)
এক. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র নাম মুখে উচ্চারণ করলে বা কানে শুনলে। যেমন মাসায়েলের মধ্যে এর আলোচনা এসেছে।
দুই. যখন কোন বৈঠকে বসবে, সেখান থেকে ওঠার পূর্বে দুরুদ শরীফ পাঠ করবে। দুরুদ পরিত্যাগকারীর ধমকির আলোচনায় এটা এসেছে।
তিন. দু’আর শুরুতে ও শেষে দুরুদ শরীফ পাঠ করেব। দুরুদ শরীফের বৈশিষ্ট্যর আলোচনায় এটি এসেছে।
চার. মসজিদে প্রবেশের সময় এবং মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এভাবে দুরুদ শরীফ পড়ার কথা হাদীস শরীফে এসেছে- (ফাযায়েলে দুরুদ ও সালাম)
পাঁচ. আযানের পর (দু’আ পড়ার আগে)। মুসলিম ও তিরমিযী শরীফের হাদীসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দুরুদ পাঠ করবে এবং তার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ’ওয়াসীলা’ প্রার্থনা করবে। (ফাযায়েলে দুরুদ ও সালাম)
ছয়. ওযুর সময়। ইবনে মাজা শরীফের হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- ঐ ব্যক্তির ওযু হয় না, যে নবীর উপর দুরুদ পাঠায় না। অর্থাৎ, ওযুর পুরা সওয়াব পায় না। (ফাযায়েলে দুরুদ ও সালাম)
সাত. রওযা শরীফ যিয়ারতের সময়। ইমাম বাইহাকী বর্ণনা করেছেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি আমার কবরের নিকট আমার উপর দুরুদ পাঠ করে, তার দুরুদ পাঠ আমি শুনি। (ফাযায়েলে দুরুদ ও সালাম)
আট. বই-পুস্তক ও চিঠিপত্রের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘আল-হামদুলিল্লাহ’-এর পর দুরুদ শরীফ লিখবে। ইবনে হাজার মাক্কী (রহঃ) লিখেছেন যে, এ রীতি সর্বপ্রথম হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রাযিঃ)এর যুগে আরম্ভ হয়। তিনি তার পত্রসমূহে এভাবেই লিখতেন। (ফাযায়েলে দুরুদ ও সালাম)
নয়. রাতের বেলা তাহাজ্জুদের জন্য জাগলে। ইমাম নাসায়ী (রহঃ) ‘সুনানে কাবীরে’ দীর্ঘ এক হাদীস বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তাআলা এমন ব্যক্তিকে পছন্দ করেন, যে মধ্যরাতে এমনভাবে জাগে যে, কেউ জানতে পারে না। তারপর ওযু করে। তারপর আল্লাহর প্রশংসা করে এবং দুরুদ পাঠ করে। তারপর কুরআন শরীফ পাঠ করতে আরম্ভ করে। (ফাযায়েলে দুরুদ ও সালাম)
দশ. মহামারী, ভূমিকম্প ইত্যাদি বিপদ দূর হওয়ার জন্য। জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহঃ) ও অন্যান্য মুহাদ্দিস বিভিন্ন হাদীস থেকে এটি উদ্ভাবন করেছেন। (ফাযায়েলে দুরুদ ও সালাম)
Leave a Reply